বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
সেদিন সহকর্মীদের নিয়ে কাবুলের গভর্নর অফিসের দেয়ালে ম্যুরাল আঁকছিলেন চিত্রশিল্পী ওমাইদ শরিফি। তখনো তিনি জানেন না, আর কয়েক ঘণ্টা পরই বদলে যাবে পরিস্থিতি। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাবেন। কাবুল চলে যাবে তালেবানদের দখলে। এসব না জেনেই দেয়ালে রঙ-তুলির আঁচড় কাটছিলেন ওমাইদ ও তার দল। কিন্তু দুপুর থেকে উত্তাপ টের পেতে থাকেন তারা। সরকারি কর্মচারীরা স্রোতের মতো অফিস থেকে রাস্তায় নামছিলেন। অনেকে লাফ দিয়ে উঠছিলেন গাড়িতে। কেউ আবার সাইকেল চালিয়ে কিংবা দৌড়ে সামনের দিকে ছুটছিলেন। তাদের গন্তব্য, বাড়ি কিংবা এয়ারপোর্ট। ওমাইদ শরিফিও রঙ-তুলি গুছিয়ে সহকর্মীদের নিয়ে ছুটলেন। কিছু সময় পর তালেবানরা কাবুলের ক্ষমতা নিয়ে নিল। তারিখ ১৫ আগস্ট, ২০২১।
ত্রকলাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আর্টলর্ডসের প্রধান ওমাইদ শরিফি। সাত বছরের বেশি সময় ধরে কাবুলসহ আফগানিস্তানের সর্বত্র রঙচটা ও বিধ্বস্ত দেয়ালগুলোয় ২ হাজার ২০০টিরও বেশি চিত্র এঁকেছেন প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা। এসব দেয়ালচিত্রে শান্তি, মানবাধিকার, লিঙ্গসমতার মতো সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতামূলক বিবিধ বিষয় উঠে এসেছে। কিন্তু ক্ষমতা দখলের তিন মাসেরও কম সময়ে এসব চিত্রকর্ম সাদা রঙে ঢেকে দেয় তালেবান সরকার। সেসব জায়গায় ঠাঁই পায় ধর্মীয় কবিতা এবং তালেবানদের আদর্শিক বার্তা। চিত্রকলার বৈধতা কিংবা অবৈধতা প্রসঙ্গে ইসলামী শরিয়তে বিস্তর বয়ান আছে। সে আলোচনায় যাওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। ফকিহরা এসব নিয়ে কথা বলবেন। তবে তালেবানদের বুঝ অনুসারে, চিত্রকলা সমাজকে পাপ ও অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তাই দেয়ালচিত্রগুলো মুছে দেয়া হয়েছে। অনেক চিত্রশিল্পী আফগানিস্তানে চিত্রকলার ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে দেশ ছেড়েছেন। ওমাইদ শরিফিও তাদের একজন। তিনি বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাস করছেন। দেয়ালচিত্র না হয় মুছে ফেলল, কিন্তু আফগানিস্তানের যুগ-যুগান্তরের চিত্রকলার যে ইতিহাস, তা মুছে ফেলা অত সহজ নয়। আফগান চিত্রকলার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে। কিন্তু এর অতীত যে অত্যন্ত উজ্জ্বল, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।